খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২০ জনে পৌঁছেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। তবে এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮২০ জনের প্রাণহানির মধ্যে ৭২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে এবং পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন।
নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত একদিনে দেশে ১৭০ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯৯০ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ১৬০ জন নতুন করে হাম বা এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৪২ জনে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর তুলনায় অনেক বেশি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২৩৯ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৭ জন। ফলে এখনো কিছু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া রোগটির বিস্তার ও জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগের কারণে প্রাণহানি ও সংক্রমণ আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।