পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুট
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আবদুল হামিদ সিকদারপাড়ায় গভীর রাতে একটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রধারী ডাকাত দলের সদস্যরা পরিবারের লোকজনকে জিম্মি করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে সৌদি আরবপ্রবাসী জমির আলম এবং তাঁর ছোট ভাই মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী রেজাউল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেলটি আছে কি না, তা দেখতে তিনি বাইরে বের হন। পরে পাশের একটি দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বসে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে সাদা রঙের একটি হায়েস গাড়ি দ্রুতগতিতে সড়ক দিয়ে চলে যেতে দেখেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে পরিচয় জানতে চান। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে ও সঙ্গে থাকা আরও দুজনকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে তাঁদের পাশের একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
রেজাউল করিম বলেন, একপর্যায়ে ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সব সদস্যকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় ডাকাতরা কাউকে কোনো ধরনের শব্দ করতে নিষেধ করে এবং বাধা দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা প্রথমে রেজাউল করিমের কক্ষে প্রবেশ করে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা এবং ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পরে তাঁর বড় ভাই সৌদি প্রবাসী জমির আলমের কক্ষে ঢুকে আরও আড়াই লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। সব মিলিয়ে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার ১৭ ভরি।
রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল জানান, তাঁর স্বামী রাতে মোটরসাইকেল দেখতে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বাড়িতে ফিরলেও তাঁর সঙ্গে অস্ত্রধারী ৭-৮ জন মুখোশপরা ব্যক্তি ছিল। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চালায়। পরে তারা বাড়ি থেকে সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। ফলে ডাকাতদের গতিবিধি ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের ভয় দেখায়। একপর্যায়ে তাঁর গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেওয়া হয়। পরে আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা তামিম বলেন, এলাকায় এর আগেও অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক বছর আগে একই এলাকার পাশের দুটি বাড়ি থেকে অস্ত্রধারীরা ছয়টি গরু লুট করে নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ডাকাতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ডাকাত দলের সদস্যদের ব্যবহৃত যানবাহন, তাদের গতিবিধি এবং সিসি ক্যামেরার সম্ভাব্য অন্যান্য ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে লুট হওয়া নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার দিকেও নজর রয়েছে স্থানীয়দের। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।