খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসন সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী দামে বড় ধরনের পতনের মুখে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের বিনিময় মূল্য বেড়ে ৪,০৮৭.৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। স্পট গোল্ডের পাশাপাশি মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারস মার্কেটেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে; সেখানে ফিউচারস দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স বিক্রি হচ্ছে ৪,০৮৯.৯০ ডলারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যাওয়া বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির দীর্ঘমেয়াদি চাপকে কিছুটা হালকা করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় মান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। এই সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতির কারণেই স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা তরতর করে বাড়ছে।
সংঘাতের কূটনৈতিক আপডেট প্রসঙ্গে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা না চালায়, তবে ইরানও সব ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক উপদেষ্টাদের পরামর্শে ওয়াশিংটন তাদের পূর্বঘোষিত বিমান ও বোমা হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত যুদ্ধের তীব্রতা কমবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিকরা।
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির বিনিয়োগকারীদের সব নজর ২৮ ও ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পলিসি মিটিংয়ের দিকে। বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকটি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৬ শতাংশ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কমার প্রভাবে কেবল স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও চাঙ্গা ভাব লক্ষ করা গেছে। বিশ্ববাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১.৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্পে ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ১.৫ এবং ১.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।