খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় একটি দ্রুতগামী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই বোনসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও তিনজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার বেলা দুইটার দিকে ব্যস্ততম কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের স্কুলপাহাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। নিহত দুই বোন হলেন রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। তাঁরা উভয়েই উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত পুরুষ যাত্রীর কোনো পরিচয় বা নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, পারিবারিক একটি মামলার কাজে অংশ নিতে দুই বোন সোমবার সকালে উখিয়া থেকে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন। আদালতের যাবতীয় আইনি কার্যক্রম শেষ করে বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর বেলা দুইটার দিকে অটোরিকশাটি কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ভয়াবহ সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই একজন পুরুষ যাত্রী প্রাণ হারান। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই বোনকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদেরও মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলের একজন প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল গফুর জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজের সন্তানদের নিয়ে স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর চোখের সামনেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর পরই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এই দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানির সত্যতা নিশ্চিত করে রামু হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মহাসড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।