খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে এসে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানা প্রাচীর ধসে নাছিমা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে কলেজটির পেছনের অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় কলেজের পেছনের সড়কে টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য অনেক মানুষ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই কলেজের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন। স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত নাছিমা বেগম মিরপুর ২ নম্বর জনতা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানা প্রাচীর ধসে নাছিমা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছিলেন সাধারণ মানুষ। হঠাৎ বিকট শব্দে দেয়াল ধসে পড়লে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও কয়েকজন দেয়ালের নিচে চাপা পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে দেখতে পান। তাদের মধ্যে এক নারীর মুখে গুরুতর আঘাত এবং পায়ে ভাঙনের চিহ্ন ছিল। পরে জানতে পারেন, ওই নারীর নাম নাছিমা বেগম এবং তিনি মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতায় স্থানীয় লোকজনও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। ঘটনার পর সীমানা প্রাচীরের ধসে পড়া অংশ পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
রাজধানীতে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পুরোনো বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে যেখানে নিয়মিত সাধারণ মানুষের ভিড় থাকে, সেখানে ভবন ও সীমানা প্রাচীরের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় কী কারণে প্রাচীরটি ধসে পড়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।