খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
সাতক্ষীরার উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরার নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব মাদক পুড়িয়ে ও বিনষ্ট করে ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
বিজিবি সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে ধ্বংসকৃত এই মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির নিয়মিত নজরদারির চিত্র তুলে ধরে ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে সর্বমোট ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য ও মাদক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। চোরাচালানের এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৪১ জন চোরাকারবারীকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়। উদ্ধার হওয়া মোট মালামালের মধ্যে প্রায় ৩২ কোটি টাকাই ছিল বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য।
আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা মাদকের তালিকায় ছিল ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৬৫৪ পিস ইয়াবা, ১ কেজি মারাত্মক হেরোইন, ২ কেজি ৪০০ গ্রাম মারাত্মক প্রাণঘাতী ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ১৪ বোতল এলএসডি, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭ পিস অবৈধ প্রক্রিয়ায় আনা ওষুধ, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ও বড়ি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ ও দেশ গঠনে বিজিবি কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের মাদক চোরাচালান বন্ধে বিজিবির সদস্যরা দিনরাত সতর্ক প্রহরায় রয়েছেন। মাদক নির্মূলে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মাদক ধ্বংস অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, র্যাব-৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
মন্তব্য