খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে বেধড়ক মারধর ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ অপ্রীতিকর ও আশঙ্কাজনক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
আহত ব্যক্তির পরিচয় সূত্রে জানা গেছে, তার নাম ফারুক হোসেন প্যাদা। তিনি দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি পদে দায়িত্বরত আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, ওই গৃহবধূর সঙ্গে ফারুক হোসেনের পরকীয়া ও অনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে—এমন সন্দেহ এবং অভিযোগ তুলে বুধবার রাতে কয়েকজন স্থানীয় যুবক তাকে ঘেরাও করে ফেলে। এরপর তাকে এক জায়গায় আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ফারুক হোসেন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে পড়লে আশপাশের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়দের একটি দল এগিয়ে আসে এবং তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফারুক হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, পরকীয়ার কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তার ভাষ্যমতে, এলাকাভুক্ত সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির কয়েকজন ব্যক্তির সাথে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধ ছিল। সেই পুরনো শত্রুতার সুযোগ নিয়েই তারা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয় করতে এ হামলা চালিয়েছে। ফারুক হোসেন আরও অভিযোগ তোলেন, মারধরের পাশাপাশি হামলাকারীরা তার সাথে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি মূল্যবান মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে।
ফারুক হোসেন বলেন, “আমার নৈতিক চরিত্র নিয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট। পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করেই আমাকে পরিকল্পিতভাবে ঘেরাও করে মারধর করা হয়েছে এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
বিপরীতমুখী বক্তব্য দিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম। তিনি জামায়াত নেতার দাবি অস্বীকার করে বলেন, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ তার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং অর্থকড়ি ও নানাবিধ প্রলোভন দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে হয়রানি করছিলেন। জাহানারা বেগমের দাবি, এ বিষয়টি নিয়ে পূর্বে সামাজিকভাবে সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এরপরও ফারুক হোসেনের আচার-আচরণে কোনো সংশোধন আসেনি এবং তিনি ক্রমাগত অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বর্তমানে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দাসপাড়ায় মারামারির খবর পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশি টিম পাঠানো হয়েছিল। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য