খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫১ পিএম
ভোলার তজুমদ্দিনে এক মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা আত্মসাতের নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ‘মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা’য় ঘটা এই জালিয়াতির অভিযুক্ত মূল নায়ক স্থানীয় জামায়াত নেতা ও তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন।
নথি ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় জুনিয়র শিক্ষক পদে যোগদান করেন মো. মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। চাকরিপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তৎকালীন সময়ে তাকে একটি এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চাকরি করার পর উক্ত শিক্ষকের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে দেশে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হলেও, কোনো নিবন্ধন ছাড়াই ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ওই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন।
অভিযোগে বলা হয়, নামের হুবহু মিল থাকার সুযোগ নিয়ে নবনিয়োজিত জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন তাঁর পূর্বসূরি মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব নম্বরটি নিজের নামে চালিয়ে দেন। শিক্ষক নিবন্ধনের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে ২০০৬ সাল থেকে মৃত শিক্ষকের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়মিত সরকারি এমপিও ও বেতন-ভাতা তুলে আসছিলেন তিনি। এমনকি সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও ওই একই ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে টাকা তোলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এভাবে টানা দুই দশক ধরে তিনি সরকারি কোষাগারের লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন মাদ্রাসা সুপার হিসেবে মাওলানা মো. নুরুজ্জামান যোগদানের পর। প্রশাসনিক কাগজপত্র নিরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি এই দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক জালিয়াতি ধরে ফেলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি অবিলম্বে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর নথিপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই ভয়াবহ অসঙ্গতি আমার নজরে আসে। একজন পরলোকগত শিক্ষকের পরিচিতি ও অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহার করে ২০ বছর ধরে সরকারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করা হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে এবং আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা সম্ভব হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মহিউদ্দিন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এক হওয়ার কথা মানলেও ওই হিসাব থেকে টাকা তোলার কথা তিনি অস্বীকার করেন। কিন্তু তিনি প্রকৃতপক্ষে কোন হিসাব নম্বর থেকে বেতন তুলতেন—এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠোনো হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আত্মসাৎকৃত সরকারি টাকা উদ্ধারসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য