খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র রূপ নিয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট। দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এবং বাসা-বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ না থাকার ভোগান্তি এখন চরম পর্যায়ে। বহু এলাকায় দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় গ্যাস না থাকায় চুলা জ্বালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই তীব্র সংকটের প্রতিবাদ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাবিতে হারিকেন ও হাঁড়ি-পাতিল হাতে রাজপথে নেমেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, নাগরিক জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলো নিরসন তো দূরের কথা, দিন দিন সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঢাকা শহরসহ সারাদেশের সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল পাঠানো হয়েছে। বিল এসেছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। বিদ্যুতের ব্যবহার না থাকলেও লাগামহীনভাবে বিল কীভাবে দ্বিগুণ হয়, সাধারণ মানুষের পক্ষে সেই হিসাব মেলানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
বিক্ষোভকারীরা সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও পাম্পগুলোতে মারাত্মক গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। অভিযোগ উঠে, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না দিয়ে উল্টো নতুন করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে সরকার। পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা, যার প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতে। সমস্যা সামাল দেওয়ার বদলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে, যা দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষকে কথা দেওয়া হয়েছিল যে নির্বাচিত সরকার আসলে জনদুর্ভোগ কমবে, দেশের মানুষ তার গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার ফিরে পাবে এবং নিত্যপণ্যের দাম ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে। অথচ বাস্তবে মানুষ ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেলে পরবর্তী ২ ঘণ্টা অন্ধকারের মুখোমুখি হচ্ছে। রান্নাঘরে জ্বলছে না গ্যাসের চুলা।
অবিলম্বে এই ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অবসান ঘটানো, লোডশেডিং বন্ধ করা এবং গৃহস্থালি ও পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। অনতিবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।
মন্তব্য