খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
সংকট কাটিয়ে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে আবারও দেখা দিল সোনালী দিন। গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক বড় বাজেটের সিনেমা আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারায় যে মন্দা নেমে এসেছিল, তা পুরোপুরি ঘুচিয়ে দিল নতুন কিস্তি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ৯২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) আয় করে ইতিহাস গড়েছে সিনেমাটি। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উদ্বোধনী আয়ে এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যার উদ্বোধনী আয় ছিল ১২২ কোটি ডলার।
চলচ্চিত্রটি তৈরিতে আনুমানিক খরচ হয়েছিল ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলে পা রাখার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই পুরো নির্মাণ ব্যয় তুলে এনে এক অসামান্য বাণিজ্যিক সফলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই স্পাইডার-ম্যান।
উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসেও সিনেমাটি নতুন নজির গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজার থেকে প্রথম সপ্তাহান্তেই পকেটে পুরেছে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা সেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের মাইলফলক। এক্ষেত্রেও ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বের প্রায় ৭৩ হাজারের বেশি পর্দায় সিনেমাটি একযোগে প্রদর্শিত হয়, যেখান থেকে সংগৃহীত হয়েছে ৫৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক আয়ের সিংহভাগই এসেছে চীনের বাজার থেকে—যেখানে উদ্বোধনী আয় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার। এছাড়া যুক্তরাজ্যের সিনেমাপ্রেমীরা প্রথম সপ্তাহান্তেই ঢেলেছেন ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’–এর গল্পের যেখানে ইতি ঘটেছিল, তার কয়েক বছর পরের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। যথারীতি এবারও জনপ্রিয় অভিনেতা টম হল্যান্ড অভিনয় করেছেন পিটার পার্কার তথা স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন—এক নিঃসঙ্গ পৃথিবীতে তাকে লড়তে হয়, যেখানে তার কাছের মানুষ কিংবা শত্রুদের কেউ আর চেনে না যে সেই স্পাইডার-ম্যান।
ব্যক্তিগত একাকিত্ব, মানসিক দূরত্ব ও সম্পর্কগুলোকে নতুন করে গড়ে তোলার গল্পই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে। সিনেমার প্রধান নারী চরিত্র এমজে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জেনডায়া। পর্দায় তাদের চমৎকার রসায়ন এবং অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের একাংশের মতে, পিটার পার্কার হিসেবে এটিই হল্যান্ডের জীবনের সেরা অভিনয়। মার্ভেল স্টুডিওসের সভাপতি কেভিন ফাইগি সিনেমাটির এমন সাফল্যকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘দ্য মার্ভেলস’ কিংবা ‘থান্ডারবোল্টস’-এর মতো ভারী বাজেটের ছবিগুলো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পর মার্ভেল ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল। ফলে এই অবিস্মরণীয় সাফল্য পুরো স্টুডিওকে নতুন অক্সিজেন সরবরাহ করল। মার্ভেল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী ডিসেম্বরে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র মতো বড় প্রজেক্টের আগে এই সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বাতাবরণ তৈরি করল।
করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানে বিশ্বজুড়ে সিনেমা হলের টিকিট বিক্রিতে যে ভাটা পড়েছিল, তা কাটিয়ে সিনেমা হলগুলো আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠছে। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস আয় এবার করোনা-পরবর্তী সময়ে নতুন করে ১০ বিলিয়ন ডলার ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যে ‘টয় স্টোরি ৫’, ‘মাইকেল’ এবং ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’র মতো সিনেমাগুলো বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করেছে। সেই দৌড়ে এখন শামিল টম হল্যান্ডের ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল আলোচিত ‘দ্য ওডিসি’। শুধু তাই নয়, ‘অবসেশন’ কিংবা ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো স্বল্প বাজেটের হরর ছবিও গল্প আর প্রশংসার জোরে বিশ্বজুড়ে ৩৯ কোটি ডলারের ব্যবসা হাঁকিয়ে প্রমাণ করেছে—প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে ভালো নির্মাণের বিকল্প নেই।
মন্তব্য