খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়ালে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার যে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই বিভাগটি সোমবার রাত ১০টার দিকে তাদের পূর্বের বিজ্ঞপ্তিটি সংশোধন করে শেষ অংশের কড়া আইনি হুঁশিয়ারির বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষোভ ও সামাজিক মাধ্যমের নানা আলোচনা প্রসঙ্গে একটি স্পষ্টিকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তির একদম শেষাংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়া যদি কেউ অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য বা গুজব প্রচার করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর অবস্থান প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাতে নতুন আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থার অংশটি বাদ দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের রাত ১০টার সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করার চেষ্টা করছে, যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, মে, জুন ও জুলাই মাসের বিল সংক্রান্ত যতগুলো সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে জমা পড়েছিল, তার প্রতিটিই ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করে সমাধান করা হয়েছে। ফলে এই বিষয়ে অহেতুক অপপ্রচার বা ভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ বা বাস্তবতা অবশিষ্ট নেই।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আইনি শাস্তির ভয় দেখানোর বদলে কিছুটা নমনীয় ভাষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় পুনরায় নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রতিটি গ্রাহকের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর যদি নিজের বিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এসেছে বলে মনে হয়, তবে তিনি তথ্য-প্রমাণসহ নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিস বা নিজ অঞ্চলের বিতরণ সংস্থায় লিখিত আবেদন করতে পারেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে এবং সত্যতা মিললে দ্রুত সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মতে, জুন ও জুলাই মাসে সারাদেশে অতিরিক্ত গরমের কারণে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কুলিং সিস্টেম এবং অতিরিক্ত ফ্যান-এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের চাপ ও মোট ইউনিট খরচ কিছুটা বাড়ে। তবে এর বাইরেও মিটার রিডিং সংগ্রহ বা বিল তৈরিতে মানবিক ত্রুটি থাকলে তা দাপ্তরিক প্রক্রিয়াতেই সমাধান করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
মন্তব্য