খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫০ পিএম
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, মোবাইল ফোন, খালি চেকের পাতা, নগদ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন মিরপুর বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে। এ বিভাগ থেকে ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর উত্তরা বিভাগ থেকে ৭১ জন এবং তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪৯ জন, মতিঝিল থেকে ৩৬ জন, লালবাগ থেকে ৩৭ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুলশান বিভাগ থেকে ৩১ জন, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে ৬ জন এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিট ও বিভাগের সমন্বিত অভিযানের ফল হিসেবে এই গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১১ কেজি ৯৮০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৩৩৬ পিস ইয়াবা এবং ৯০ বোতল ফেন্সিডিল। এসব মাদকদ্রব্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি একটি ওয়ান শাটারগান ও একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আরও ১৭টি মোবাইল ফোন, ৩০টি খালি চেক বইয়ের পাতা, নগদ ১ হাজার ৮০ টাকা এবং ২৮ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, জাল নোটের বিস্তার এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদক, অস্ত্র, জাল নোট ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে এসব অপরাধের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিএমপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য