খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২ পিএম
যশোরে নাশকতার উদ্দেশ্যে অবস্থান ও সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক পৌর মেয়র ও সাবেক কাউন্সিলরসহ ১৩৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৯ নেতাকর্মীকে আদালতের আদেশের মাধ্যমে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত রবিবার (২ আগস্ট) যশোর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই রাতে যশোর সদর উপজেলার রাজারহাট এলাকার ‘পিকনিক কর্নার’-এর পাশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা গোপনে সমবেত হন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, তাঁরা সরকারবিরোধী মিছিল বের করাসহ এলাকায় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অনেকেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ১৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও অনেককে আসামি করে মামলা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন শেখ তানভীর ইসলাম ইমন (ওরফে ক্যাপ্টেন ইমন), ফারদিন দুর্জয়, ওহিদুল ইসলাম শেখ, রাকিবুল রহমান (ওরফে বড় বাবু), আল আমিন ও সম্রাট হোসেন। এ ছাড়া একই রাতে অন্য আরেকটি পৃথক মামলায় বর্তমান ইউপি সদস্য মঈনুর রহমান এবং দুই সাবেক ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম ও আকরাম হোসেনকে পুলিশ আটক করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সাবেক কাউন্সিলর হাজি সুমন, যুবলীগ নেতা সাইদুজ্জামান বাবু (ওরফে দাঁতাল বাবু), আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আতিকুর বাবু, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদার এবং সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল।
এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান লাইফ, দলনগরের হবিবর রহমান, উপশহরের সাবেক চেয়ারম্যান এহসানুল হক লিটু, উপশহরের মুনসুর আলী, চিমা, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজু এবং চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মুন্না।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর থেকে পলাতক অন্যান্য এজাহারনামীয় আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য