খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৫:১০ পিএম
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বাড়িটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চাঁন্দেরকোলা গ্রামের ওই বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
নিহতরা হলেন—আব্দার হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২২), মৃত রশিদ শেখের মেয়ে মনিরা বেগম (৫৫) এবং তাঁর স্ত্রী রাশিদা বেগম (৮৫)। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে ওই বাড়ির আশপাশে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হলেও দুর্গন্ধের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে কচুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে তিনজনের গলিত মরদেহ দেখতে পায় এবং সেগুলো উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় মরদেহগুলো ঘরের ভেতরে পড়ে থাকায় পচন ধরে যায় এবং সেখান থেকেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঠিক কত দিন আগে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিম চাঁন্দেরকোলা গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হন। একই পরিবারের তিনজনের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, বাড়ির ভেতরের অবস্থান এবং সম্ভাব্য আলামত খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে নিহতদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক, তাঁদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং কারও সঙ্গে বিরোধ বা বিরূপ সম্পর্ক ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে হত্যার উদ্দেশ্য, ঘটনার সময় এবং এতে কারা জড়িত ছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করা হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ, সম্পত্তি-সংক্রান্ত কোনো দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ ঘটনার পেছনে ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কচুয়া থানার কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহামুদ হাসান বলেন, কয়েক দিন ধরে ওই বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের মৃত্যুর সময় ও কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার অবসান ঘটাতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপরই এখন গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কতটা এগোয় এবং ময়নাতদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মন্তব্য