খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম
স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার নাবিল ইউসুফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পূর্ব থানা-পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ‘ভিসাগাইড’ নামের একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর ভুয়া আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। ভুক্তভোগী জারিন তাসনীমসহ অন্তত ৩৬ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ গ্রহণের বিপরীতে ভুক্তভোগীদের ব্যাংক চেক ও সাময়িক রসিদ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি, আবার কোনো টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ৫ জুলাই ভুক্তভোগীরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে খোঁজ নিতে গেলে দেখেন যে অফিসটি রাতের আঁধারে গুটিয়ে পালিয়েছে চক্রটি।
ঘটনার পর গত ১২ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী জারিন তাসনীম। মামলার পর তদন্তে নেমে গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজার এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত নাবিল ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামির বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায়। এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাব্বির হোসেন, মতিউর রহমান, সাইদুর রহমান ও রাবেয়া খাতুন তানিয়া নামের আরও চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালতে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামি নাবিল ইউসুফকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। প্রতারক চক্রের মূল নেটওয়ার্ক, অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কৌশল, নেপথ্যে জড়িত অন্য সহযোগীদের পরিচয় এবং আত্মসাৎ করা অর্থ কোথায় পাচার বা লুকানো হয়েছে তা উদ্ঘাটনে রিমান্ড অপরিহার্য। পাশাপাশি একই ভুয়া এজেন্সির ফাঁদে পড়ে আরও কোনো শিক্ষার্থী সর্বস্ব হারিয়েছেন কি না, সেটিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য