খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৭ পিএম
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম সজলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী এক দলীয় কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা জামায়াত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতের জরুরি সাংগঠনিক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বহিষ্কৃত নুরুল ইসলাম সজল উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে গজারিয়া পাড় এলাকার এক প্রতিবন্ধী জামায়াত কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক অবস্থায় নুরুল ইসলাম সজলকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম সজলকে তার বড় ভাই কাজল মিয়ার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরপর অভিযোগটি উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাদের কাছে পৌঁছায়। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর দলীয় নীতিমালা, শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে নুরুল ইসলাম সজলকে ইউনিয়ন আমিরের পদসহ দলের সব ধরনের দায়িত্ব ও সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইদ্রিস আলী বলেন, নুরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, গাজীপুর ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি না হয়, সে জন্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মাওলানা মো. আব্দুল মতিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম সজলের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমবার সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো নেতার বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তির নয়, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত এ ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এই ঘটনাতেও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার দাবি করে জামায়াত তাদের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
প্রয়োজনে এটি আরও রূপান্তর করে দিতে পারি সংবাদপত্রধর্মী ঢঙে, রূপান্তর করে দিতে পারি সংক্ষিপ্ত ঢঙে বা রূপান্তর করে দিতে পারি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ঢঙেেও রূপান্তর করে দিতে পারি।
মন্তব্য