খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত চোখ কপালে তোলার মতো। ২০ জন শিক্ষক মিলে সারাবছর পাঠদান করিয়েছেন মাত্র ১২ জন দাখিল পরীক্ষার্থীকে। তবে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল মারাত্মক এক বিপর্যয়—অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেলের এই অবিশ্বাস্য ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে চরম প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফলের আনুষ্ঠানিক বিবরণী পর্যালোচনা করে এই তথ্য সামনে আসে। পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের চরম ব্যর্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের প্রশ্ন, যেখানে গড়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একের বেশি শিক্ষক বিদ্যমান, সেখানে এমন লজ্জাজনক ফলাফল হয় কীভাবে? শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতেন, তবে একটি ছেলেও কেন পাস করতে পারল না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উদয় হয়েছে হাজারো প্রশ্ন।
বিপর্যয়কর এই ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান দায় মূলত শিক্ষার্থীদের ওপরই চাপান। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা সারা বছর মাদরাসায় নিয়মিত উপস্থিত থাকত না। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শত চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত অভ্যাসের কারণেই মূলত এই ফল বিপর্যয় ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যক্ষ জানান, অতীতে মাদরাসাটিতে শিক্ষক সংকট এবং অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে সম্প্রতি নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সেই ঘাটতি দূর করা হয়েছে। ২০ জন শিক্ষকের একঝাঁক নতুন প্যানেল নিয়ে তাঁরা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলাফল উপহার দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক তদারকির অভাব এবং শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানে চরম গাফিলতিই এই ফলাফলের মূল কারণ। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি ঢাকতেই এখন শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের জোর দাবি, এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া সত্ত্বেও কেন এমন খামখেয়ালিপনা চলবে? শিক্ষকেরা আদৌ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসতেন কি না কিংবা ক্লাস নিতেন কি না, তা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এই অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল বিপর্যয় এবং স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একটি সচল প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করার মতো ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকেরা।
মন্তব্য