খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস অর্থাৎ জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৫৬ কোটি ডলার। ফলে গত অর্থবছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, কানাডা ও নতুন বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও নতুন বাজার ছাড়া বাকি বাজারগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান দিয়ে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হওয়া তৈরি পোশাকের অর্ধেকের গন্তব্য ছিল ইইউ। বড় এই বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৯৮৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি।
ইইউর দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালি ও ডেনমার্কে ৫০ কোটি ডলার বা তার বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে স্পেন ও ইতালি ছাড়া বাকি দেশগুলোতে রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি।
বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে জার্মানিতে ২৪৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া স্পেনে ১৭০ কোটি, ফ্রান্সে ১০৯, নেদারল্যান্ডসে ১০৬, পোল্যান্ডে ৭৯, ইতালিতে ৭৭ ও ডেনমার্কে ৫৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে পোল্যান্ডে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ আর সর্বনিম্ন স্পেনে, ৩ শতাংশের কাছাকাছি।
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বড় বাজার। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সে দেশে ৩৮৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ১৯–২০ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় কানাডা, মেক্সিকো ও চীন থেকে পণ্য আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় বাজারটি নিয়ে নতুন করে সম্ভাবনা দেখছেন তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, চীনা পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এতে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয়াদেশ সরাবে। ফলে বাড়তি ক্রয়াদেশ বা অর্ডার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
একাধিক উদ্যোক্তা গণমাধ্যমকে জানান, শুল্ক আরোপের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অনেকে বাড়তি ক্রয়াদেশ দেওয়া শুরু করেছে। নতুন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও কারখানার সঙ্গে আলোচনা কিংবা বাংলাদেশে ভ্রমণ করছে।
ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া প্রচলিত দুই বাজার যুক্তরাজ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ২১৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। আরেক প্রচলিত বাজার কানাডায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৬৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ।
নতুন বাজারেও ভালো করছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে এই বাজারে ৩৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩১৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। সেই হিসাবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন বাজারে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে নতুন বাজারের মধ্যে জাপানে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে। এই সময়ে সেখানে ৬০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ৪৩ কোটি, ভারতে ৩৭, কোরিয়ায় ২৩ ও তুরস্কে ২২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ, ভারতে ১৮ শতাংশ, কোরিয়ায় ২ দশমিক ৮৪ ও তুরস্কে ৪৩ শতাংশ।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, ক্রয়াদেশ থাকলেও বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি পোশাকের কম দাম। শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য খরচ বাড়লেও বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আগের চেয়েও কম দাম দিতে চাচ্ছে। সে কারণে অনেক ক্রয়াদেশ নেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটও ভোগাচ্ছে। গ্যাস–সংকটে অনেক বস্ত্রকল পুরোদমে উৎপাদন করতে পারছে না। সে কারণে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের অনেকে ভারত থেকে সুতা আমদানি করছেন। ফলে দেশীয় বস্ত্রকল দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্যাংকিং সমস্যাও পিছু ছাড়ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক হয়নি। এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যা দ্রুত সমাধান না করা গেলে রপ্তানির এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।
খবরওয়ালা/জেআর