খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
বিদেশি অপরাধী চক্রের অনলাইন হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি প্রশাসনিক স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনায় বিদেশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা সাইবার হামলা চালানোর আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এই প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগানো। এ যাবৎকালে সাইবার হামলা প্রতিহত করা কিংবা অনলাইনে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করার মতো সংবেদনশীল কাজগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা বা সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট ইউনিট পরিচালনা করত। নতুন এই নীতির ফলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো একপ্রকার সরকারের পক্ষ হয়েই অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারবে।
তবে এই স্মারক কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে যেকোনো স্থানে হ্যাকিং চালানোর অনিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা দিচ্ছে না। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সকল কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় পরিচালিত হতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের অন্যতম বড় পটভূমি হলো বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং এর অপব্যবহার। শক্তিশালী এআই মডেলের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা অতি সহজেই পুরোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ফেলতে পারছে। চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হ্যাকারদের হামলা চালায়, যা স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল স্থাপনাকে অচল করে দিয়েছিল। এছাড়া তথ্য জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করা (র্যানসমওয়্যার) এবং অর্থনৈতিক জালিয়াতির শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এসব অপরাধে জড়িত বিদেশভিত্তিক চক্রগুলোকে প্রশাসন ‘আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন’ বা টিসিও হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ও বিচার বিভাগকে সমন্বিতভাবে একটি বিশেষ কর্মসূচি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো কেন্দ্রীয়, স্থানীয় বা আঞ্চলিক সরকারের পাশাপাশি অপরাপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে। তারা নির্দিষ্ট হুমকি চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় নিজস্ব পরিকল্পনা প্রস্তাব ও বাস্তবায়ন করবে। অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোকে মূলত দুই ধরনের কাজের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে:
সাইবার নজরদারি কার্যক্রম: সন্দেহভাজন অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক এবং তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ।
সাইবার প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রম: প্রতিপক্ষের সার্ভার বা ডেটা নেটওয়ার্কের ক্ষতি সাধন করা, প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করা বা পুরোপুরি অকার্যকর করে দেওয়া।
তবে অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন বা ক্ষমতার অপব্যবহার এড়াতে বেশ কিছু শক্ত শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। সাইবার অভিযানে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রতিটি কোম্পানিকে অন্তত ১০ লাখ ডলারের একটি জামানত বা বন্ড নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ডিজিটাল নিরাপত্তার বড় অগ্রগতি বলা হলেও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও আইন প্রণেতাদের একটি অংশ এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বেসরকারি খাতকে এ ধরনের সামরিক ধাঁচের অভিযানে যুক্ত করলে আন্তর্জাতিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত ভুল বা তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে নির্দোষ কোনো তৃতীয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন গত মার্চ মাসে ঘোষিত জাতীয় সাইবার নিরাপত্তানীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানালেও, এ বিষয়ে ডিএইচএস ও হোয়াইট হাউসের কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মন্তব্য