টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ রেজাউল করিম ওরফে রেজা ফকির (৩৫) নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের চর শিমলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক রেজাউল করিম উপজেলার চাতুটিয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি সৈয়দপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে। একই অভিযানে মাদক বহন ও সরবরাহে সহায়তার অভিযোগে তাঁর সাথে থাকা মোটরসাইকেলচালক মনিরুজ্জামান মুন্নাকেও (২৪) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার মুন্না উপজেলার গুলিপেঁচা গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
গোপালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম শিক্ষাকতার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিলেন—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে চর শিমলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশ দেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে দুজনকে ঘেরাও করে আটক করা হয়। পরে রেজাউল করিমের দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
শিক্ষার মতো পবিত্র পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তির এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার খবরে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে মাদকের সংস্পর্শে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন এবং উপজেলায় নতুন যোগদান করার কারণে ওই শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তবে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। সরকারি বিধিমোতাবেক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের টাঙ্গাইল বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

