চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে লাখো মানুষ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুস। বুধবার, ২৬ আগস্ট সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নেন।

হিজরি সনের ১২ রবিউল আউয়াল মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনে মক্কা নগরীতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে কুরাইশ বংশে। পিতা আবদুল্লাহ তাঁর জন্মের আগেই ইন্তেকাল করেন এবং ছয় বছর বয়সে মা আমিনাকেও হারান তিনি। পরবর্তীতে চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কাটে।

মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য একত্ববাদ, ন্যায়, সাম্য, দয়া, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা প্রচার করেন। দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুয়তি জীবনে তিনি আরব সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের অধিকার ও নৈতিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় তাঁর ওফাত হয়। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণে ১২ রবিউল আউয়াল বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। বাংলাদেশেও দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জশনে জুলুস এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় শোভাযাত্রা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো এ জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন হয়ে আসছে। চলতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এর ৫৫তম আসর।

এবারের জুলুসের নেতৃত্ব দেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতারা। শোভাযাত্রা শুরুর আগে মিলাদ, দোয়া ও ধর্মীয় বক্তব্যের আয়োজন করা হয়। পরে নির্ধারিত পথে জুলুস এগিয়ে যায়। নগরের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে, ফুটপাতে এবং ভবনের ছাদেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে শোভাযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন।

আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, এবারের জুলুসে ব্যাপক জনসমাগমের প্রত্যাশা রয়েছে। আগের বছরগুলোর মতো এবারও চট্টগ্রাম নগরের বাইরে থেকেও বহু মানুষ এতে অংশ নিতে আসেন। জুলুসকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ধর্মীয় পতাকা, ব্যানার ও বিভিন্ন শোভাযাত্রার উপকরণে সাজানো হয় অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাত। তবে আয়োজনের মূল আবহ ছিল মহানবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও তাঁর জীবনাদর্শ স্মরণের মধ্যেই।

জুলুসটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলুস ময়দানের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে মিলাদ, নাতে রাসুল (সা.), জোহরের নামাজ ও দোয়া মাহফিলের মতো ধর্মীয় কর্মসূচি আয়োজনের কথা ছিল। এত বড় জনসমাগমকে কেন্দ্র করে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালনের কথা জানানো হয়েছিল।

চট্টগ্রামের এই জশনে জুলুস শুধু একটি শোভাযাত্রা নয়, বরং বহু মানুষের কাছে নবীজির জীবন, শিক্ষা ও আদর্শ স্মরণের একটি বার্ষিক ধর্মীয় আয়োজন। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ এ আয়োজনের সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। এবারের ৫৫তম জশনে জুলুসেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জনসমাগম ও ধর্মীয় আবহ।

Tags :

Shakib

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।