খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকায় একটি ময়লার স্তূপ থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বিকেলে সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের নিকটবর্তী একটি ময়লার স্তূপ থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এই নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলের দিকে কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত ময়লার স্তূপে কয়েকটি কুকুর একটি রক্তমাখা বস্তু নিয়ে টানাটানি করছিল। কুকুরের এই অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করে কয়েকজন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা ময়লার স্তূপের কাছে এগিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান যে, কুকুরগুলো মূলত একটি মানব নবজাতকের মৃতদেহ নিয়ে টানাটানি করছে।
এই দৃশ্য দেখার পর স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন। জাতীয় জরুরি সেবা থেকে বার্তা পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে ময়লার স্তূপ থেকে নবজাতকের মরদেহটি সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত নবজাতকটির গর্ভকালীন বয়স আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় মাস হতে পারে। মৃতদেহটি মূলত একটি অপরিণত মানব ভ্রূণ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো গর্ভপাতের পর আইনি ঝামেলা এড়াতে কেউ হয়তো রাতের আঁধারে লোকচক্ষুর অন্তরালে ভ্রূণটি ওই নির্দিষ্ট ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে চলে গেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশি প্রক্রিয়া ও আইনি সুরতহাল শেষ হওয়ার পর, মরদেহটি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার উদ্দেশ্যে সমাজসেবামূলক সংস্থা ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম’-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনায় পরবর্তীতে নবজাতকের মরদেহটি যথাযথভাবে দাফন করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানের প্রধান ফটকের সামনে এভাবে নবজাতকের মৃতদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নবজাতকের এই মৃতদেহটি ঠিক কীভাবে ওই স্থানে এলো, এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চিকিৎসাগত অপরাধ জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এই ভ্রূণটি কোথা থেকে আনা হয়েছে কিংবা কানাইপুর ও এর আশেপাশের কোনো ক্লিনিকে সম্প্রতি এমন কোনো গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে এই ঘটনার প্রকৃত উৎস উদঘাটনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অপরাধমূলক কোনো তথ্য প্রমাণিত হলে পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।