খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝখানে পা আটকে আব্দুর রহমান গাজী (১২) নামের এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ের পাতা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে নুরাইনপুর লঞ্চঘাটে ঘটে। আহত কিশোর উপজেলার ইন্দ্রকুল গ্রামের বাসিন্দা, মো. রাসেল গাজীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আব্দুর রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চঘাটের পন্টুনে অবস্থান করছিল। বিকেল ৪টার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চটি নুরাইনপুর ঘাটে ভিড়ে।
যাত্রীদের ওঠানামার ভিড়ে, কিশোরটি পন্টুন থেকে লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করলে লঞ্চটি ধীরে ধীরে পন্টুনের সঙ্গে ঘেঁষে যায়। তখন তার ডান পা দুইয়ের মাঝে আটকে যায় এবং পায়ের পাতার মাংস ছিঁড়ে মারাত্মক জখম হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ বলেন, “কিশোরটির ডান পায়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়।”
কালাইয়া বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আল মামুন জানান, “ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও যাত্রীদের অসতর্কতার কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
| তারিখ ও সময় | স্থান / ঘটনা | আহতের নাম ও বয়স | দুর্ঘটনার কারণ | পদক্ষেপ / মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ মার্চ, বিকেল ৫টা | নুরাইনপুর লঞ্চঘাট, বাউফল | আব্দুর রহমান গাজী, ১২ | লঞ্চ-পন্টুনে পা আটকে, পায়ের পাতার মাংস ছিঁড়ে | প্রাথমিক চিকিৎসা বাউফল, পরে বরিশাল স্থানান্তর |
| ২৮ মার্চ | বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | — | অবস্থা সংকটাপন্ন | উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে |
| ২৮ মার্চ | বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ | — | উন্নত চিকিৎসা | ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে |
এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং যাত্রীদের সতর্কতার অভাব মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন ও নৌ-পুলিশ ভবিষ্যতে যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পন্টুন ও লঞ্চে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে।