দিনাজপুর সদর উপজেলার ভূষিরবন্দর এলাকায় আত্রাই নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে নদীতে নামার পর নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুর মরদেহ পৃথক সময়ে উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
নিহত দুই শিশু হলো সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের হাড়গাঁ গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে শর্মি ইসলাম (১২) এবং একই গ্রামের বাবুলের মেয়ে বৃষ্টি (১০)। শর্মি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বৃষ্টি পড়ত পঞ্চম শ্রেণিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিন শিশুকন্যা সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের ভূষিরবন্দর বেগুনতাড়া গ্রামের সুইজগেটসংলগ্ন আত্রাই নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর পানিতে তলিয়ে যায় তিনজনই। তাদের মধ্যে একজন কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। বাকি দুই শিশু পানির নিচে তলিয়ে যায়।
সঙ্গী শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে গ্রামের অনেকে নদীতে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুকে খুঁজতে থাকেন। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা কোতোয়ালি থানায় বিষয়টি জানান। পুলিশ দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরে রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বুধবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকেই শর্মি ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঝানজিরা ফিরিঙ্গীর ঘাট এলাকায় মরদেহটি ভেসে ওঠে।
সুন্দরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম জানান, নদীতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মধ্যে দুইজন নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরাও তল্লাশিতে অংশ নেন।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে দুই শিশুকে পারিবারিক গোরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
দুই শিশুর মৃত্যুতে হাড়গাঁ গ্রামে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতে গোসলের সময় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে স্রোত ও পানির গভীরতা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে শিশুদের নদীতে নামার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


