নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজার মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। মসজিদের এক মুয়াজ্জিন পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র ও গুলিগুলো দেখতে পেয়ে সেগুলো থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আড়াইহাজার পৌরসভার আড়াইহাজার বাজার মসজিদের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশে কোরআন রাখার একটি তাকের ওপর অস্ত্র ও গুলিগুলো দেখতে পান মসজিদের মুয়াজ্জিন নাসির উদ্দিন। সেখানে একটি পিস্তলের পাশাপাশি দুটি ম্যাগাজিন ও ২০ রাউন্ড গুলি পড়ে ছিল।
অস্ত্রগুলো দেখতে পাওয়ার পর নাসির উদ্দিন সেগুলো নিজের কাছে না রেখে সরাসরি আড়াইহাজার থানায় নিয়ে যান। পরে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেনের কাছে পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিগুলো হস্তান্তর করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি ৯ এমএম মডেলের। আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে যাচাই করে পিস্তলটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২০২৪ সালের ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে পুলিশের স্থাপনা ও অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও তৎপরতা চালানো হয়। আড়াইহাজারে মসজিদ থেকে উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র সেই সময় লুট হওয়া অস্ত্রেরই একটি বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে।
তবে অস্ত্রটি কীভাবে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় পৌঁছাল, কে বা কারা সেখানে রেখে গেছে এবং কতদিন ধরে এটি সেখানে ছিল—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে।
মসজিদের মতো জনসমাগমপূর্ণ একটি স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে মুয়াজ্জিন নাসির উদ্দিন দ্রুত অস্ত্রগুলো থানায় জমা দেওয়ায় সেগুলো নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ২০ রাউন্ড গুলির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অস্ত্রটির ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং মসজিদে রেখে যাওয়ার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হবে।


