খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৪

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা ইউনিয়নের কৃষকদের নিয়ে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে মহদীপুর ট্রাক টার্মিনাল চত্বরে মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকী করন প্রকল্পের আওতায় জমির যৌর্থ ব্যবহারকারী কৃষক ও মালিকদের দিন ব্যাপী সভা আয়োজন করা হয়। সভায় মিরপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ মতিয়র রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া জেলার সমন্বিত কৃষি প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন, মিরপুর উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ মাহিরুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাদ্দাম হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন এবং কৃষক মোঃ আজিজুর রহমান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় আলোচনা কালে আলোচক বৃন্দ বলেন, কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষক জন্ম থেকেই একে অপরের পরিপূরক। বাংলাদেশের ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষির সঙ্গে খাদ্য জড়িত, আর খাদ্যের সঙ্গে জীবন। এই জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সর্বপ্রথম সনাতন চাষ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে। প্রতিবছর দেশে শূন্য এক শতাংশ হারে কৃষিজমি কমলেও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে চালের উৎপাদন। দেশের কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের বিকাশ মূলত ধান চাষকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। তবে ধান কেন্দ্রিক যান্ত্রিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের কৃষি খাতকেই যান্ত্রিকতার আওতায় নিয়ে আসা উচিত। বিবিএস ২০২২-এর জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৮ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর, মোট সেচকৃত জমির পরিমাণ ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার হেক্টর, পতিত চার লাখ ৩১ হাজার হেক্টর। এক ফসলি জমি ২১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৪১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর, তিন ফসলি জমি ১৮ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর, চার ফসলি জমি ২৩ হাজার হেক্টর এবং মোট ফসলি জমির পরিমাণ এক কোটি ৬০ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর। কৃষিতে নিয়োজিত জনবল মোট জনশক্তির ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্য (চাল+গম+ভুট্টা) উৎপাদন চার কোটি ৫৮ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন, আলু উৎপাদন ১০১ দশমিক ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ও শাকসবজি উৎপাদন ২১৬ দশমিক ৭০ লাখ মেট্রিক টন। অধিকতর দক্ষতা এবং শ্রম ও সময়সাশ্রয়ী উপায়ে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে মানুষ ও প্রাণিশক্তির ব্যবহার হ্রাস করে অধিক পরিমাণে যন্ত্রশক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তি ও কলাকৌশল প্রয়োগের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বলা হয়। যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিকাজে ব্যবহƒত উপকরণ, সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় হয়, সেই সঙ্গে ফসল আবাদের দক্ষতা, নিবিড়তা, উৎপাদনশীলতা ও শস্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং কৃষিকাজ লাভজনক ও কর্মসংস্থানমুখী হয়। এ ছাড়াও প্রতিকূল পরিবেশে যন্ত্রের ব্যবহার উৎপাদন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে দক্ষ জনবল সৃষ্টি, লাভজনক ও বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থায় উত্তরণ এবং টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষক পর্যায়ে ব্যয়সাশ্রয়ী ও মুনাফা বৃদ্ধিকারী কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ত্বরান্বিত করা, কৃষি শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, শস্যের ফলন বৃদ্ধির জন্য জমিতে যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি করা যাতে সার্বিকভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যায়। স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকদের উৎসাহিত করা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় টিকে থাকার জন্য সহায়তা প্রদান করা। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য আমদানিকারক, প্রস্তুতকারক, ভাড়ায় যন্ত্র সেবা প্রদানকারী এবং কৃষকদের সহজ ও বিশেষায়িত ঋণ সুবিধা সহজলভ্য করা। গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ জরুরি। আর গ্রামীণ কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার করতে হবে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ। একই সঙ্গে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষতিও কমানো সম্ভব হবে। কেবল জমি চাষই নয়, জমিতে নিড়ানি, সার দেওয়া, কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো ও ধান থেকে চাল সবই আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে করা সম্ভব।