মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে হ্যালো বাইকের ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্বশুরকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের জামাই রাসেল (২৭)-এর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত সিদ্দিক আলী (৪৮) নামে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাসেলকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের সাকরাইল গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিক আলী ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় অটোচালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে সিদ্দিক আলীর বাড়িতে হ্যালো বাইকের ব্যাটারি চুরি করতে যান তার মেয়ের জামাই রাসেল। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর ব্যাটারি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাসেলের সঙ্গে শ্বশুর সিদ্দিক আলীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাসেল সিদ্দিক আলীকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিয়া বলেন, রাতে চিৎকার শুনে তিনি বাড়ির বাইরে আসেন। তখন সিদ্দিক আলী ও রাসেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি দেখতে পান। একপর্যায়ে রাসেল লাথি দিলে সিদ্দিক মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী রুনা বেগমের অভিযোগ, ঘটনার সময় রাসেলের সঙ্গে আরও দুজন ব্যক্তি ছিলেন। তাদের একজনের নাম শাওন বলে তিনি জানান। তবে ওই দুজনের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রাসেল নেশাগ্রস্ত এবং নেশার অর্থ জোগাড় করতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এতে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
এদিকে রাসেলকে আটক করার পর স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে তিনি আহত হওয়ায় পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, রাসেলকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় তিনি পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিদ্দিক আলীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তদন্তে বিবেচনা করা হবে।


