জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের ভাগনি মাহবুবা হাকিমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় ভুয়া ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি নিজের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘এলএলএম, ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ উল্লেখ করলেও বাস্তবে আইন বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা ব্যারিস্টারি পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। ভুল ও তথ্য বিকৃতির এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় এখন তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলসহ নতুন করে চরম আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীর হলফনামার অনুলিপিটি সম্প্রতি প্রকাশ পায়। ওই নথিতে যোগ্যতার নির্দিষ্ট ঘরটিতে মাহবুবা হাকিম নিজের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ এবং ‘এলএলএম’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন। তবে তাঁর প্রকৃত শিক্ষাগত পটভূমি ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরবর্তীতে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে আইন বিষয়ে কোনো উচ্চতর ডিগ্রি বা ব্যারিস্টারি ডিগ্রি তাঁর নেই।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় প্রতিটি তথ্য সঠিক ও সত্য হওয়া আইনত বাধ্যতামূলক। সেখানে ভুয়া, কাল্পনিক কিংবা ভুল তথ্য উপস্থাপন করা সরাসরি অপরাধ। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হলে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রার্থিতা কিংবা জয়ী হওয়ার পর তাঁর পদ বাতিল করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এর বাইরেও মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়েরেরও সুযোগ থেকে যায়।
আইনসভার একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন তথ্য গোপন ও অসত্য বক্তব্য উপস্থাপনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়লে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কমিশন প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রাপ্ত অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।


