নাটোরে শিশুদের তুচ্ছ খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ৮ বছর বয়সি এক শিশুর ডান হাতের আঙুল কেটে ফেলার এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শাকিল, যিনি নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কনস্টেবল পদে কর্মরত। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার যে বাড়িতে বাস করে, সেই একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন কনস্টেবল শাকিল। আহত শিশুর বাবা মো. মাহমুদুল হাসান মিলন ঢাকার জনতা ব্যাংকের লোকাল ব্রাঞ্চে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা একই বাড়ির ভাড়াটিয়া সদস্যদের নিয়ে একটি নৈশভোজ বা পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে কনস্টেবল শাকিলের পরিবারও উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে দুই পরিবারের শিশুদের মধ্যে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ হাতাহাতি ও সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়। তবে দুই শিশুর মা সে সময়ই এগিয়ে এসে বিষয়টি বুঝিয়ে পারিবারিক পর্যায়ে মীমাংসা করে দেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সেই ঘটনার এক মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করে জানান, সকালে কনস্টেবল শাকিল তাঁর অবুঝ ছেলেকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় কক্ষে শাকিলের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নেওয়ার পর শাকিল একটি ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের আঙুল কেটে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পরপরই মারাত্মক রক্তাত ও গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে স্থানীয় নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকেরা তাকে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে রক্তক্ষরণ না থামায় এবং আঙুলের জখম গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। একজন বাবা হিসেবে এ ধরনের অমানবিক আচরণে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার জটিলতা বাড়াতে এবং নিজেদের আড়াল করতে কনস্টেবল শাকিল ওই ছোট শিশুটির বিরুদ্ধে নাটোর পুলিশ সুপারের কাছে অনভিপ্রেত ও মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে। অবশ্য এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মাহবুবুর রহমান স্পষ্ট করে জানান, চিকিৎসাধীন এই শিশুর ঘটনায় ধর্ষণসংক্রান্ত বা এ ধরনের কোনো তথ্যের সত্যতা হাসপাতালে রেকর্ড হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য নেওয়ার জন্য কনস্টেবল শাকিলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের নজরে এসেছে। কোনো ব্যক্তি বা সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


