রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগের ঘটনায় আজ রোববার সংবাদ সম্মেলন করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। দুপুরে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন বলে জানিয়েছেন উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন।
শনিবার গভীর রাতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই প্রকল্পের একটি স্থাপনায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও অবস্থিত। হামলার পর স্টুডিওটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুরের চিত্র সামনে আসে।
সালমান মুক্তাদির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ভিডিওতে স্টুডিওর ভেতরের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখান। সেখানে চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকেও কান্নারত অবস্থায় দেখা গেছে।
সালমানের অভিযোগ, নিউ গিনি প্রপার্টিজের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। জমির মালিককে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ার জেরেও হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বরাতে চাঁদা দাবি এবং জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথাও এসেছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, ঘটনাটি শুধু স্টুডিওকে লক্ষ্য করে হয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন জানিয়েছেন, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ইসিবি চত্বরের একটি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে ছোরাসহ আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার সময় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। স্টুডিওর শুটিং সরঞ্জাম, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত বা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। হামলার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি কিংবা অন্য কোনো কারণ কাজ করেছে কি না—তা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। এসব দাবির সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্তই এখন মূল বিষয়।
এ অবস্থায় ডিএমপির আজকের সংবাদ সম্মেলনে হামলার কারণ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে। পুলিশের বক্তব্যের পরই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।


