ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলসহ অন্তত ২০টি দোকান ও একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে ততক্ষণে সিনেমা হলসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিনেমা হলের পাশে থাকা এলপিজি সিলিন্ডারের গুদাম, ডেকোরেশন সামগ্রীর দোকান এবং পুরোনো কাপড়ের দোকানসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে থাকা বিভিন্ন মালামালও আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, সিনেমা হলের পাশের সিলিন্ডারের গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এটিকে এখনো চূড়ান্ত কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এলপিজি সিলিন্ডারের মতো দাহ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী সংরক্ষণের স্থান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের স্থাপনায় দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। গৌরীপুরের এই ঘটনায়ও আগুন কাছাকাছি থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করায় আগুন আরও বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
ঝলমল সিনেমা হলটি গৌরীপুরের পুরোনো পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি। স্থানীয় একটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িতে সিনেমা হলটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত থাকায় অগ্নিকাণ্ডে এর ক্ষতি শহরের পুরোনো ঐতিহ্যের ক্ষেত্রেও একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর ব্যবসায়ীরা এখন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানের পণ্য, সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি কত, তা তদন্ত ও পরবর্তী মূল্যায়নের পর নিশ্চিত করা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
রাতের সময়ে আগুন লাগায় শুরুতে ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এলপিজি সিলিন্ডারের গুদাম থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত, এর বিস্তারের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


