হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হোদেইদা, তায়েজ, আমরান, হাজ্জাহ, সাদা, আল-জাওফ, আল-দালি ও মারিব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা।
বিবৃতিতে সারি দাবি করেন, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩০ জনের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। তবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পৃথক সংখ্যা, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ধরন কিংবা হতাহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।
হুথিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোট সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৬৫২টিতে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে কোন ধরনের হামলা কতটি রয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার এমন দাবি দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। নারী ও শিশুরা সংঘাতের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তবে হুথিদের অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে হামলার প্রকৃত সংখ্যা, লক্ষ্যবস্তু এবং হতাহতের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে স্বাধীন সূত্রের তথ্য প্রয়োজন।
ইয়েমেন দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এ ধরনের সংঘাতে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।
বর্তমান ঘটনায় হুথিদের দেওয়া তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।


