আবুধাবিতে চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিতে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পরও ফাইনালে খেলার আশা শেষ হয়ে যায়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে নিজেদের ম্যাচে ভালো করার পাশাপাশি অন্য দলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে টাইগারদের।
ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে বাংলাদেশের প্রথম চাওয়া, আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতুক জিম্বাবুয়ে। এরপর আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচে জয় তুলে নিতে হবে বাংলাদেশকে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নেট রান রেটও হয়ে উঠতে পারে ফাইনালে ওঠার পথে বড় নিয়ামক।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় টুর্নামেন্ট কিংবা বহুজাতিক সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে পৌঁছাতে গিয়ে বাংলাদেশকে প্রায়ই নানা সমীকরণের মুখোমুখি হতে হয়। কখনো নিজেদের পারফরম্যান্সে সেই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হয়, আবার কখনো অন্য দলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়। আবুধাবির এই সিরিজেও তেমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছে বাংলাদেশ।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি দলটি। ব্যাটে-বলে প্রতিপক্ষের কাছে পিছিয়ে পড়ে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয় শান্তদের। এই পরাজয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেলেও ফাইনালে ওঠার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
জিম্বাবুয়ের জয়ই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির
বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই নির্ভর করছে আজকের আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের ফলের ওপর। এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জয় পেলে দলটি প্রথম হিসেবে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে। তখন বাকি থাকবে দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট নির্ধারণের লড়াই।
সে ক্ষেত্রে আগামী বুধবার শারজায় বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি কার্যত অঘোষিত সেমিফাইনালে পরিণত হবে। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি হবে টিকে থাকার লড়াই। বাংলাদেশ জয় পেলে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। অন্যদিকে আফগানিস্তান জিতলে তারা জিম্বাবুয়ের সঙ্গী হিসেবে শিরোপার লড়াইয়ে নামার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সহজ হবে, কারণ তখন নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ থাকবে সরাসরি মাঠে। আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে ফাইনালে ওঠার পথে বড় বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে যে ব্যর্থতা দেখা গেছে, তা কাটিয়ে ওঠা জরুরি।
আফগানিস্তান জিতলে বাড়বে জটিলতা
আজকের ম্যাচে যদি জিম্বাবুয়ের পরিবর্তে আফগানিস্তান জয় পায়, তাহলে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে বুধবার আফগানিস্তানকে হারানোই যথেষ্ট হবে কি না, তা নির্ভর করতে পারে দলগুলোর পয়েন্ট ও নেট রান রেটের হিসাবের ওপর।
বর্তমানে বাংলাদেশের নেট রান রেট মাইনাস ১.৯৮০। প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের ব্যবধানে হারের কারণে এই অবস্থায় পড়েছে দলটি। নেট রান রেটের এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হলে পরের ম্যাচে শুধু জয় পেলেই চলবে না, প্রয়োজনে বড় ব্যবধানেও জিততে হতে পারে। তবে ঠিক কত রানের ব্যবধানে জয় প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করবে অন্য ম্যাচের ফল এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর রান ও ওভারের হিসাবের ওপর।
নেট রান রেট সাধারণত একটি দলের মোট রান তোলার গতি এবং প্রতিপক্ষের রান তোলার গতির ব্যবধানের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। সমান পয়েন্টে থাকা দলগুলোর মধ্যে অবস্থান নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি রান এবং প্রতিটি ওভারই হয়ে উঠতে পারে মূল্যবান।
শান্ত-হৃদয়দের সামনে কঠিন পরীক্ষা
বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় পরাজয়ের পর দলকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ইনিংসের পাশাপাশি বোলারদেরও প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে নেট রান রেটের হিসাব সামনে থাকলে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সব হিসাবের আগে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা। অন্য দলের ফলাফল নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই, কিন্তু নিজেদের ম্যাচে জয় তুলে নেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি শান্তদের হাতেই। জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান ম্যাচের ফল অনুকূলে এলে সেই জয় ফাইনালের পথ খুলে দিতে পারে।
এখন বাংলাদেশের সমর্থকদেরও নজর থাকবে আবুধাবির ম্যাচের দিকে। জিম্বাবুয়ে জিতলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ নতুন করে আশার আলো দেখবে। আর আফগানিস্তান জয় পেলে শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি রান রেটের হিসাবও মাথায় রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার আশা এখনো টিকে আছে বাংলাদেশের। তবে সেই আশা বাস্তবে রূপ দিতে হলে ভাগ্যের সহায়তার পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে। বুধবারের ম্যাচে শান্ত, হৃদয় ও তাসকিনদের সামনে তাই অপেক্ষা করছে গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা।


