সীতাকুণ্ডে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত, আহত ৪

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক পোলে ধাক্কা দিয়েছে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। এ দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চার যাত্রী। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন ৬০ বছর বয়সী রোজী আক্তার এবং তাঁর মেয়ে ৪২ বছর বয়সী নাজমা খাতুন। রোজী আক্তার জয়পুরহাট পৌরসভার বাদশা গ্রামের মৃত নজিবুর রহমানের স্ত্রী। তাঁর মেয়ে নাজমা খাতুন জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী।

দুর্ঘটনায় আহত চারজনের মধ্যে মো. আলতাফ হোসেন (৫২) নামে একজনের পরিচয় জানা গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে মাইক্রোবাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাড়িটি বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক পোলে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাঁদের মধ্যে রোজী আক্তার ও নাজমা খাতুন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজী আক্তার ও তাঁর মেয়ে নাজমা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য চার যাত্রীর চিকিৎসা ও তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামান দুর্ঘটনা ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যম যুগান্তরকে জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক পোলে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির দুই যাত্রী মা ও মেয়ে নিহত হন। একই গাড়িতে থাকা আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন।

এসআই জামান আরও জানান, স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ফলে মহাসড়কের কোনো অংশে চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানি ও হতাহতের আশঙ্কা থাকে।

তবে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা সড়কের পরিস্থিতি—কোনো বিষয়ই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সতর্কভাবে গাড়ি চালানো, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে মহাসড়কে যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে চালকের দায়িত্বশীলতা ও গাড়ির নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় একই পরিবারের মা ও মেয়ের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।