বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪০৫ জন, চট্টগ্রামে ২০০ জন এবং সিলেটে ১২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশালে ৯৪ জন, খুলনায় ৮১ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রংপুরে ৩০ জন এবং রাজশাহীতে ২১ জন ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২।
সন্দেহজনক রোগী ২ লাখ ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ২৩ হাজার ২৪৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০৮ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ জন।
হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মানেই নিশ্চিতভাবে হাম হয়েছে, এমন নয়। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পরিসংখ্যান আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ।
শিশুদের ক্ষেত্রে হাম বিশেষ উদ্বেগের কারণ। এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ঝুঁকি বেশি।
হাম প্রতিরোধে টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এবং নতুন রোগী ভর্তির পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।


