সিলেট বিভাগজুড়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকা হামের প্রাদুর্ভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবনযুদ্ধের সাথে হেরে যাওয়া এই শিশু দুটির বয়স ছিল মাত্র তিন মাস এবং দশ মাস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক জরুরি বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমকে বিষাদময় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন করে দুই শিশুর এই মর্মান্তিক আকস্মিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো সিলেট অঞ্চলে হাম ও এর বিভিন্ন জটিল উপসর্গজনিত রোগে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে ২০২ জনে গিয়ে পৌঁছাল। সরকারি হিসেবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন এমন জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলায় সিলেটজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, গোটা বিভাগেই প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিগত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের নানা প্রান্ত থেকে এসে নতুন করে ১২৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই মুহূর্তে সিলেট বিভাগের নানা সরকারি হাসপাতালে মোট ৪৬৮ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর। এই একটি হাসপাতালেই বর্তমানে সর্বাধিক ২০০ জন আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ছাড়া সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৮ জন এবং বিভাগের অন্যান্য দূরবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অবশিষ্ট ১০০ জন রোগী ভর্তি আছেন।
পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া মোট ১ হাজার ১১৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রান্তিক অঞ্চলের যেসব শিশু হাসপাতালে না এসে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদের যুক্ত করলে বাস্তব চিত্র হবে আরও ভয়াবহ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টি, সচেতনতার ঘাটতি এবং শিশুদের সময়মতো হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা না দেওয়া বা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকার শিডিউল মিস করার কারণেই অঞ্চলটিতে সংক্রামক রোগটি অতি দ্রুত রূপ নিচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুসে সংক্রমণ, তীব্র নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাদের জীবনঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। উদ্ভূত সংকটে দ্রুত মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, জরুরি স্যালাইন ও ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর তাগিদ দিচ্ছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন।


