বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মীরেরখীল কালিছড়ি সেতুর কাছে মাতব্বর বাড়ির পাশের সড়কে নেজাম উদ্দিনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আগের রাতে ধানখেত পাহারা দিতে গিয়ে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে তাঁকে খুঁজতে বের হয়ে পরিবারের সদস্যরা সড়কের ওপর তাঁর মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
নিহত নেজাম উদ্দিন উপজেলার মীরেরখীল স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা রফু মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি চাষাবাদ ও গাছ কাটার কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্য হাতির উপদ্রব থেকে পাকা ধান রক্ষা করতে মঙ্গলবার রাতে নিজের খেত পাহারা দিতে গিয়েছিলেন নেজাম উদ্দিন। ফসলের ক্ষতি ঠেকাতে রাত জেগে খেত পাহারা দেওয়া তাঁর সেই রাতের শেষ কাজ হয়ে দাঁড়ায়। পরদিন সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে কী কারণে নেজাম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্প ও ডিবি) এবং রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
হত্যার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত
নেজাম উদ্দিনকে কেন হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ধানখেত পাহারা দেওয়ার সময় কোনো বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা বের করা তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পাকা ধান ঘরে তোলার সময় ফসল রক্ষায় কৃষকদের রাত জেগে খেত পাহারা দিতে হয়। বিশেষ করে বন্য হাতির উপদ্রব রয়েছে এমন এলাকায় কৃষকদের জন্য এই দায়িত্ব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে নেজাম উদ্দিনের মৃত্যুর সঙ্গে বন্য হাতির উপদ্রবের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ জানতে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।


