চলচ্চিত্রের পর্দায় যিনি প্রথম বন্দি করেছিলেন বাংলার নাট্যজগৎ, বিজ্ঞাপনের ভাষা দিয়েছিলেন চলমান ছবিকে, আর রাজনৈতিক ইতিহাসকে ধারণ করেছিলেন ক্যামেরায়—সেই বিস্মৃতপ্রায় অগ্রদূতের নাম হীরালাল সেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সূচনাপর্বে যে মানুষটি নিজের মেধা, সাহস ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তিনি হীরালাল সেন। বর্তমান বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলার বকজুরি গ্রামের এই কৃতী সন্তান ছিলেন অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের আদি পথিকৃৎদের একজন। যখন চলচ্চিত্র ছিল একেবারেই নতুন বিস্ময়, যখন চলমান ছবির জগৎ সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল সীমিত, তখনই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন এই নতুন শিল্পমাধ্যমের অসীম সম্ভাবনা।
তিনি শুধু ছবি ধারণ করেননি, চলচ্চিত্রকে ব্যবহার করেছিলেন গল্প বলার, শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার, পণ্যের প্রচার করার এবং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ করে রাখার মাধ্যম হিসেবে। আজকের চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের বিকাশের ইতিহাসে তাঁর অবদান তাই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণযোগ্য।
অথচ কী নির্মম পরিহাস! তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর প্রায় সবই আজ ইতিহাসের হারানো সম্পদ। ১৯১৭ সালের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর সৃষ্টিকর্মের ভান্ডার পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হারিয়ে যায় এমন সব দৃশ্য, যা সংরক্ষিত থাকলে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের আদি ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ ও জীবন্ত হয়ে উঠত।
জন্ম ও শৈশব
১৮৬৬ সালের ২ আগস্ট মানিকগঞ্জ জেলার বকজুরি গ্রামে হীরালাল সেনের জন্ম। তাঁর পিতা চন্দ্রমোহন সেন, মাতা বিধুমুখী দেবী। পিতামাতার আট সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর পিতামহ গোকুলকৃষ্ণ মুনশি ঢাকার জজ আদালতের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর পিতাও কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত হন।
মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে হীরালালের শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পাশাপাশি তিনি একজন মৌলভি সাহেবের কাছে ফারসি ভাষা শিখতেন। ১৮৭৯ সালে মাইনর পরীক্ষা পাস করার পর ভর্তি হন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে। পরে পিতার সঙ্গে কলকাতায় গিয়ে কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন।
কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেনা গণ্ডি তাঁকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি। নতুন কিছু দেখার, জানার এবং সৃষ্টির অদম্য আকাঙ্ক্ষা তাঁকে টেনে নিয়ে যায় এক সম্পূর্ণ নতুন জগতে—চলচ্চিত্রের জগতে।
চলমান ছবির বিস্ময় থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ
১৮৯৮ সালে কলকাতার স্টার থিয়েটারে ‘দ্য ফ্লাওয়ার অব পারস্য’ (The Flower of Persia) নামের অপেরার সঙ্গে অধ্যাপক স্টিভেনসনের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। সেই প্রদর্শনীই হীরালাল সেনের জীবনে এক যুগান্তকারী ঘটনা হয়ে আসে।
চলমান ছবির এই অভিনব শিল্পমাধ্যম তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। অধ্যাপক স্টিভেনসনের ক্যামেরা ব্যবহার করে তিনি নির্মাণ করেন A Dancing Scene from the Opera, The Flower of Persia—অপেরাটির একটি নৃত্যদৃশ্যের চলচ্চিত্রায়ণ। এভাবেই চলচ্চিত্র নির্মাণের ইতিহাসে নিজের যাত্রা শুরু করেন হীরালাল সেন।
ভাবতে অবাক লাগে, আজ যে চলচ্চিত্র আমাদের বিনোদন, শিল্পচর্চা, ইতিহাস সংরক্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম, তার শৈশবকালেই হীরালাল সেন এই শিল্পের সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। যখন উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক স্টুডিও কিংবা প্রশিক্ষিত চলচ্চিত্রকর্মীর সহজলভ্যতা ছিল না, তখন সীমিত উপকরণ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তিনি নির্মাণ করেছিলেন নিজের সৃজনজগৎ।
রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি: নতুন ইতিহাসের সূচনা
চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই হীরালাল সেন তাঁর ছোট ভাই মতিলাল সেনের সহযোগিতায় লন্ডনের ওয়ারউইক ট্রেডিং কোম্পানি থেকে চার্লস আরবানের তৈরি ‘আরবান বায়োস্কোপ’ সংগ্রহ করেন। ১৮৯৯ সালের দিকে দুই ভাই প্রতিষ্ঠা করেন ‘রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি’।
এই প্রতিষ্ঠান শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; ক্রমে এটি চলচ্চিত্র নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিদেশ থেকে ফিল্ম ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে হীরালাল সেন দেশীয় পরিবেশ, নাট্যশিল্প এবং সমকালীন ঘটনাবলিকে ক্যামেরায় ধারণ করতে শুরু করেন।
তৎকালীন কলকাতার ক্লাসিক থিয়েটারে অমরেন্দ্রনাথ দত্তের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ বিভিন্ন নাটকের দৃশ্য তিনি চলচ্চিত্রে ধারণ করতেন। ভ্রমর, হরিরাজ, বুদ্ধদেব এবং আলিবাবা ও চল্লিশ চোর—এ ধরনের নাট্যপ্রযোজনার চলচ্চিত্রায়ণ তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ।
১৯০৩ সালে নির্মিত আলিবাবা ও চল্লিশ চোর তাঁর দীর্ঘতম চলচ্চিত্রকর্ম হিসেবে বিশেষভাবে আলোচিত। এটি মঞ্চনাটককে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস ছিল। তাঁর এসব কাজ বাংলা নাট্যজগৎ ও চলচ্চিত্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল।
বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে পথিকৃৎ
হীরালাল সেনের কৃতিত্ব শুধু নাটকের দৃশ্য চলচ্চিত্রে ধারণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বুঝেছিলেন, চলমান ছবির আকর্ষণকে বাণিজ্যিক প্রচারের কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।
এই উপলব্ধি থেকেই তিনি নির্মাণ করেন জবাকুসুম হেয়ার অয়েল এবং এডওয়ার্ডস টনিকের বিজ্ঞাপনচিত্র। ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্রকে পণ্যের প্রচারের কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তাঁর এই উদ্যোগ ছিল যুগান্তকারী।
আজ বিজ্ঞাপনচিত্র ছাড়া আধুনিক বিপণন ও প্রচারজগতের কথা কল্পনা করাও কঠিন। পণ্যের গুণাগুণ তুলে ধরা, দৃশ্যের সাহায্যে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা এবং নতুন প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করার যে প্রবণতা আজ সর্বত্র দৃশ্যমান, তারই আদি নিদর্শন পাওয়া যায় হীরালাল সেনের কর্মে।
তাঁর সময়ের তুলনায় এই চিন্তা ছিল অনেক অগ্রসর। তিনি চলচ্চিত্রকে শুধু বিনোদনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি; দেখেছিলেন যোগাযোগ ও প্রচারের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে।
রাজনৈতিক চলচ্চিত্র ও ইতিহাসের দলিল
হীরালাল সেনের কর্মজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশি আন্দোলনের উত্তাল সময়ে কলকাতার টাউন হলে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশের দৃশ্য তিনি ক্যামেরায় ধারণ করেন। ২২ সেপ্টেম্বরের সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি ভারতের আদি রাজনৈতিক চলচ্চিত্রের অন্যতম, এবং অনেক চলচ্চিত্র-ইতিহাসবিদ একে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
এখানেই হীরালাল সেনের দূরদর্শিতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি বুঝেছিলেন, চলচ্চিত্র শুধু মঞ্চের অভিনয় কিংবা মানুষের বিনোদনের জন্য নয়; এটি জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং ইতিহাসের গতিপথও ধারণ করতে পারে।
তাঁর ক্যামেরা তাই হয়ে উঠেছিল সময়ের সাক্ষী। যে সময়ের সংবাদ আজ আমাদের কাছে বইয়ের পাতা, পত্রিকার প্রতিবেদন কিংবা ইতিহাসবিদদের গবেষণার মাধ্যমে পৌঁছায়, সেই সময়ের দৃশ্যমান বাস্তবতাকে তিনি চলমান ছবিতে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় জীবনযাত্রা এবং সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দৃশ্যও তিনি ধারণ করেন। ফলে তাঁর কর্মজগৎ শুধু চলচ্চিত্রের ইতিহাসেই নয়, তৎকালীন বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ক্ষেত্রেও মূল্যবান।
সৃষ্টির ব্যাপ্তি ও হারিয়ে যাওয়া চলচ্চিত্রভান্ডার
হীরালাল সেনের সৃজনশীল কর্মজীবনের ব্যাপ্তি ছিল প্রায় ১৮৯৮ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তিনি নাট্যদৃশ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনচিত্র, সংবাদচিত্র, প্রামাণ্যধর্মী চলচ্চিত্র এবং অন্যান্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ধারকৃত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর চলচ্চিত্রের সংখ্যা চল্লিশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়; কিছু গবেষণায় পঞ্চান্নটি চলচ্চিত্রের নাম উদ্ধারের কথাও পাওয়া যায়।
কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকর্মের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, অধিকাংশ চলচ্চিত্র আজ আর দেখা সম্ভব নয়।
১৯১৭ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর সংরক্ষিত চলচ্চিত্রের ভান্ডার পুড়ে যায়। একে একে ধ্বংস হয়ে যায় তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম, সাধনা ও সৃজনশীলতার দৃশ্যমান নিদর্শন। পুড়ে যায় এমন এক ঐতিহাসিক সম্পদ, যা সংরক্ষিত থাকলে চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বহুগুণ সমৃদ্ধ হতে পারত।
ভাবতে কষ্ট হয়, যে মানুষটি ক্যামেরায় সময়কে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, তাঁর নিজেরই সৃষ্ট সময়ের অধিকাংশ স্মৃতি শেষ পর্যন্ত আগুনের গ্রাসে হারিয়ে গেল!
তাঁর চলচ্চিত্রগুলো বেঁচে থাকলে আমরা হয়তো দেখতে পেতাম উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের প্রথম দিকের বাংলা নাট্যজগৎ, মানুষের জীবনযাত্রা, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের বহু দুর্লভ দৃশ্য। ইতিহাসের সেই জানালাটি আজ আমাদের কাছে প্রায় চিরতরে বন্ধ।
ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম ও শেষ অধ্যায়
জীবনের শেষ পর্বে হীরালাল সেনকে আর্থিক সংকট ও পেশাগত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। চলচ্চিত্রের জগতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তার আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯১৩ সালের দিকে রয়্যাল বায়োস্কোপের চলচ্চিত্র নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর আসে সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। নিজের সৃষ্টিকর্মের প্রায় সব নিদর্শন হারানোর মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই, ১৯১৭ সালের ২৯ অক্টোবর, কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
মাত্র একান্ন বছরের জীবনে তিনি যে কাজ করে গেছেন, তার ব্যাপ্তি ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হয় এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্রশিল্পের ভিত্তিই তখনো সুদৃঢ় হয়ে ওঠেনি।
বিস্মৃতির আড়ালে এক অবিস্মরণীয় পথিকৃৎ
ইতিহাসে অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের সৃষ্টি তাঁদের জীবদ্দশায় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। কেউ হারিয়ে যান সময়ের আড়ালে, কেউ বিস্মৃত হন নতুন প্রজন্মের স্মৃতি থেকে। কিন্তু তাঁদের অবদান মুছে যায় না; নতুন গবেষণা, ইতিহাসচর্চা ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে তাঁদের কৃতিত্ব আবারও সামনে আসে।
হীরালাল সেন তেমনই এক মানুষ।
বাংলা চলচ্চিত্রের আদি ইতিহাসে তাঁর অবদান স্মরণ করা মানে কেবল একজন চলচ্চিত্রকারকে স্মরণ করা নয়; বরং সেই সাহসী সৃষ্টিশীল মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানানো, যিনি নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা চিনেছিলেন, দেশীয় শিল্পকে চলচ্চিত্রে ধারণ করেছিলেন এবং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন।
তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরি করেছেন, রাজনৈতিক আন্দোলনকে ক্যামেরায় ধারণ করেছেন এবং নাট্যশিল্পকে নতুন মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছিল শিল্প, ইতিহাস ও যোগাযোগের এক নতুন ভাষা।
আজ বাংলাদেশের মানিকগঞ্জের বকজুরি গ্রামে জন্ম নেওয়া এই অগ্রদূতকে স্মরণ করা আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রতিও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানায়। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, বড় কাজের জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন দূরদৃষ্টি, সৃজনশীলতা, সাহস এবং নতুন পথ নির্মাণের অদম্য ইচ্ছা।
চলচ্চিত্রের সেই আদি দিনের অনেক দৃশ্য হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে তাঁর নির্মিত ছবির রিল, তাঁর ক্যামেরায় ধরা অসংখ্য মুহূর্ত। কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যায়নি তাঁর নাম, মুছে যাওয়ার নয় তাঁর অবদান।
যে মানুষটি চলমান ছবিতে সময়কে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, সময়ের প্রবাহে তাঁর নিজের সৃষ্টিই হারিয়ে গেছে—তবু চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি রয়ে গেছেন এক অনিবার্য নাম হয়ে।
২৯ অক্টোবর, হীরালাল সেনের প্রয়াণদিবসে বাংলা চলচ্চিত্রের এই আদি পথিকৃৎকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র স্মরণ।
বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি, হীরালাল সেন।


