নিহত আবুল কালাম আজাদ কৃষিকাজের পাশাপাশি পবার নওহাটা বাজারে সবজির দোকান চালাতেন। তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছেলে ঢাকায় নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের উপার্জন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যক্তির এমন মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে বাড়ির বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে এশার নামাজ পড়তে যান তাঁর স্বামী। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রাত ১২টার দিকে ঘরে থাকা আরেকটি চাবি দিয়ে তালা খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি। এ জন্য অন্য একজনের সহায়তা নেওয়া হয়। পরে বাড়ির আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও স্বামীর সন্ধান পাননি।
সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তাঁদের বাড়ির ছাদে উঠতে হলে বাড়ির বাইরের দিক দিয়ে যেতে হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করার পর তিনি ছাদে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্ত্রী বলেন, বাড়ির ছাদ থেকে বিড়ালের লাফালাফির সময় যেমন শব্দ হয়, তেমন শব্দ তিনি শুনেছিলেন। তবে ওই শব্দের উৎস বা ছাদে কী ঘটছিল, সে সম্পর্কে কিছু বুঝতে পারেননি। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী বাড়িতে না ফেরায় রাতভর উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন তিনি।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, আবুল কালাম আজাদের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ওসি আব্দুল মতিন বলেন, ঘটনার রাতে বাড়িতে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তবে তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। ফলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নিজ বাড়ির ছাদে একজন ব্যক্তির এমন সহিংস মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না কিংবা এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।


