নিহত ইউনুস আল মুর্শেদ মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার কাঁঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই এলাকায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুর্শেদ নিয়মিত বাড়ির পাশের লৌহজং নদীতে ধর্মজাল দিয়ে মাছ ধরতেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলেও মাছ ধরার জন্য তিনি নদীর ঘাটে যান। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে নদীর ঘাটে যান। সেখানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে নদীতে তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর তার শরীরের কিছু দৃশ্যমান আঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা শামীনুর মিয়া জানান, মুর্শেদ সাধারণত ধর্মজাল দিয়ে মাছ ধরতেন। এ ধরনের জাল ব্যবহার করতে মাছ ধরার জন্য পানিতে নামার প্রয়োজন হয় না। ফলে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
শামীনুর মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যার ঠিক আগেও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাকে নদীতে মাছ ধরতে দেখেছেন। কিন্তু পরে নদীতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধার করার পর দেখা গেছে, তার দুটি চোখ ও একটি কান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান ছানুও ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, মুর্শেদ ভালো সাঁতার জানতেন। বুকসমান পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি তার কাছে সহজে বোধগম্য নয়। এ কারণে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শনিবার সকালে তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মরদেহে দৃশ্যমান ক্ষত, নিহত ব্যক্তির সাঁতার জানার বিষয়টি এবং নদীতে মাছ ধরার পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। তিনি কীভাবে নদীতে পড়েছিলেন, পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, কিংবা শরীরে আঘাতের কারণ কী—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ধরন এবং শরীরের ক্ষতগুলোর প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা হলে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়তা মিলতে পারে।
এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইউনুস আল মুর্শেদের মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। থানার পক্ষ থেকেও তদন্তের ফল বা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


