নওগাঁ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন নবাব (৫৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একটি বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত আসামি হিসেবে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। নিহত জাকির হোসেন নবাব বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালের দিকে কারাগারের ভেতরে অবস্থানকালে জাকির হোসেন নবাব হঠাৎ তীব্র শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কারাকর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে আসার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি এবং চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা মুনমুন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যু হয়। চিকিৎসক আরও উল্লেখ করেন যে, কারাকর্তৃপক্ষ যখন তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে, তখন তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও মুমূর্ষু ছিল। হাসপাতালে নিয়ে আসার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে নওগাঁ জেলা কারাগারের সুপার রতনা রায় বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় সকালে জাকির হোসেন নবাব হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে কারাকর্তৃপক্ষ খবর পেয়েছে, তবে হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত কোনো কাগজপত্র বা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রতিবেদন এখনও কারাগারে পৌঁছায়নি। তিনি আরও জানান, জাকির হোসেন নবাব একটি বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে নওগাঁ জেলা কারাগারে বিচারে বিচারাধীন হেফাজতে বন্দি ছিলেন।
কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে যাবতীয় প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর নিহত জাকির হোসেন নবাবের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।


