বুধবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকেরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। তাঁদের একটি অংশ পদ্মার মোড় এলাকায় এবং অন্য একটি অংশ হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শ্রমিকদের অবস্থান আরও বিস্তৃত হলে মহাসড়কের দুই পাশেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিক্ষোভকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা থেকে আরিচাগামী এবং আরিচা থেকে ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীদের পাশাপাশি দূরপাল্লার পরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনও আটকা পড়ে।
শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ন্যূনতম বেতন ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মাসিক ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাসাভাড়াসহ দৈনন্দিন খরচের চাপের মধ্যে বিদ্যমান আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা। এ কারণে বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে তাঁরা সড়কে নেমেছেন।
এদিকে, মহাসড়কের পাশে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন।
শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের একটি অংশ পরে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যান। তবে মহাসড়কে অবরোধের কারণে যান চলাচলে সৃষ্ট অচলাবস্থা ও জনদুর্ভোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বেতন, কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা নির্ধারণের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


