বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে টিফিনের পর স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্র হয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেয়। এ সময় উপস্থিত কেউ একজন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রতিবেদনটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়ার কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট নয় শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ভেতরে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়া বলেন, গত ৬ অক্টোবর স্কুলের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছিল। ঘটনার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। পরে নামাজ শেষে একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হন।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের সুযোগ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার যথাযথতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন কীভাবে এগোবে, তারা অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে কি না এবং সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বা তাঁদের অভিভাবকদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।


