বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কলাবাগান এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুনের তীব্রতায় একের পর এক স্থাপনা পুড়ে যেতে থাকে।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ বলেন, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি স্থাপনাগুলোতে আগুন লাগায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাস করে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে পানির সংকট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়।
তিনি জানান, আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কাজ করতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এর আগেই কাঠের দোকান, ফার্নিচার কারখানাসহ মোট নয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি অটোরিকশা পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল ও অবকাঠামোর বড় একটি অংশ আগুনে ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হলেও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে কাঠ, টিন ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি স্থাপনা থাকলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে পাশাপাশি দোকানপাট ও ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
খাগড়াছড়ির কলাবাগানের এ অগ্নিকাণ্ডে রাতের মধ্যে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে আগুনের সূত্রপাতের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।


