জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর জিপিওর সামনে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হবে। এরপর অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ৬ নভেম্বর ২০২৬ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে সাধারণ সিপাহীদের একটি সুশৃঙ্খল বিপ্লবী প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতালোভী ও উচ্ছৃঙ্খল সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা এবং ঔপনিবেশিক আমল থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ওই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতৃত্বে সিপাহী-জনতার এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। তৎকালীন রাজনৈতিক সংকটের সময়ে জাসদ সিপাহীদের পাশে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে দাবি করেছে দলটি।
জাসদের মতে, ওই সময়ে সামরিক বাহিনীর ভেতরে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা, সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। দলটির দাবি, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও উদ্যোগের ফলে ক্ষমতাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব, বিশৃঙ্খলা এবং প্রাণঘাতী সংঘাতের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছিল। এতে বহু সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিকের জীবন রক্ষা পায়।
বিবৃতিতে ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাসদ। দলটির অভিযোগ, অভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তৎকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈষম্যমূলক কাঠামো বহাল রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা কর্নেল আবু তাহেরকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খান, তৎকালীন সভাপতি মেজর এম এ জলিল, সাধারণ সম্পাদক আ স ম আবদুর রব, নেতা হাসানুল হক ইনু ও রবিউল আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। মেজর জিয়াউদ্দিন, সার্জেন্ট ইউসুফ এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জাসদ এসব ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে।
দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান শুধু সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কোনো ঘটনা ছিল না; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তন, বৈষম্যের অবসান এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বিষয়ও যুক্ত ছিল। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনের তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্নমত রয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে জাসদ বলেছে, শহীদ কর্নেল আবু তাহেরের আদর্শ, বিপ্লবী চেতনা এবং সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকে থাকবে। দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে দলটি সেই ইতিহাস ও রাজনৈতিক আদর্শ নতুন করে স্মরণ করতে চায়।
আজকের কর্মসূচির পাশাপাশি জাসদের জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মরণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। দলটির প্রত্যাশা, এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ এবং কর্নেল আবু তাহেরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হবে।


