শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাটের আগে রেলবিট এলাকা পার হওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সেখানে বাকশিমুল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফরে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন।
বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। একই শিক্ষাসফরের বহরে থাকা অন্য একটি বাসের যাত্রীরা দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য জানান। তবে কী কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের পুকুরে পড়ে যায়, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত দুজন হলেন মাদরাসার শিক্ষিকা সোহানা আফরোজ (৪৫) ও ইসরাফিল (৫৬)। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই দুজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পাশের একটি ইটভাটার শ্রমিকেরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তাঁরা বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে সহযোগিতা করেন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় বাসের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কেরানীহাটসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবসার জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে দুজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভোররাতে দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয় লোকজনই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে এই মহাসড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সড়কের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের মতে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁরা মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের সতর্কতা এবং নিয়মিত তদারকিও প্রয়োজন। বিশেষ করে রাত ও ভোরে দূরপাল্লার বাস চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সাতকানিয়ার এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।


