শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের তাঁতিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত হাবিব মুন্সি ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকরহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত রজ্জব মুন্সির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ওই এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় হাবিব মুন্সি নিজের মুঠোফোনে বিস্ফোরণের ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারিত হয়। ভিডিওটি গণমাধ্যমে আসার পর স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণ ও তা গণমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সিয়াম খান, দিদার খান এবং তাঁদের সহযোগীরা হাবিবের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁতিবাড়ি এলাকায় হাবিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন এবং লাঠি দিয়ে পেটান। এতে হাবিব শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কোনো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করার কারণে একজন তরুণের ওপর হামলার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোনো ঘটনার তথ্য বা ভিডিও প্রকাশের জেরে কাউকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হলে তা ব্যক্তির নিরাপত্তার পাশাপাশি গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
এদিকে, হামলার অভিযোগের বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হামলার পেছনের কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


