নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বাড়ির সামনের চলাচলের রাস্তা নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীদের হামলা ও পিটুনিতে মো. নাঈম খান (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শিমরাইল এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম খান উত্তর শিমরাইল এলাকার আব্দুল মালেক ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি পেশায় একজন স্থানীয় চা দোকানি ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির সামনের জায়গা ও চলাচলের পথ নিয়ে প্রতিবেশী মো. হোসেনের (৫০) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল নাঈম খানের। শনিবার সকালে বিরোধপূর্ণ সেই রাস্তায় টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন হোসেন। পরবর্তীতে দুপুর আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে নাঈম খান সেই টিনের বেড়া সরাতে গেলে হোসেনের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। হোসেন, তাঁর স্ত্রী মায়া আক্তার (৪০) এবং ছেলে মো. ইকবাল হোসেন (২৫) সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে নাঈম খানের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা নাঈম খানের মাথা ও বুকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। প্রতিবেশীদের প্রচণ্ড আঘাতে মাথায় ও বুকে গুরুতর জখম পেয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধ নাঈম খান।
হামলার পর স্বজনেরা নাঈম খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার আল-রাফি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বেলা ৩টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের জামাতা ইমরান অভিযোগ করে জানান, রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর শ্বশুরের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্তকে আটক করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


