খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
‘আমরা মনে করেছিলাম আমাদের প্রধান উপদেষ্টা হবেন হযরত ওমরের মতো শাসক কিন্তু তিনি হযরত ওমর হতে পারেন নাই’ বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও বার্তায় তাকে এ মন্তব্য করতে দেখা যায়।
ওই ভিডিও বার্তায় রাশেদ খান বলেন, আমার অত্যন্ত কষ্ট লাগছে কারণ তার যে ইমেজ ছিল তিনি চাইলে বাংলাদেশকে নতুন ভাবে গড়তে পারতেন। গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে আমরা তাকে ব্লাঙ্ক চেক দিয়ে বলেছিলাম, যতো দিন লাগে কাজ করেন। কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে বলছি নির্বাচন দেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে রাশেদ বলেন, আমরা উনাকে উপদেষ্টা বানিয়েছিলাম একটাই কারণে ,কারণ তিনি জনগণের সাথে কমিটমেন্ট করেছিলেন তিনি রাষ্ট্র সংস্কার করবেন। তিনি গণহত্যার বিচার করবেন, তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবেন। কিন্তু তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন তিনি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারেন নাই, গণহত্যার বিচার করতে পারেন নাই। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারেন নাই। তিনি পদত্যাগ করেছেন। সরকারে থেকে যে কাজ করা যায়, সরকারের বাইরে এসে সে কাজ করা যায় না। আপনাকে বলবো অাপনি ভুল করেছেন, আপনি যদি গণহত্যার বিচারটা ঠিকমতো করতে পারতেন, একটি নির্বাচন জনগণকে উপতার দিতে পারতেন তাহলে আজীবন দেশের মানুষ আপনাকে মনে রাখতো। কিন্তু আপনি সেটি করতে পারেন নাই, এটি আপনার ব্যর্থতা। আপনার আজকে মনে হতে পারে আমি ভুল বলছি তবে ৫-১০ বছর পরেই আপনার মনে হবে আপনি ভুল করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যে স্বপ্ন দেখেছে, তিনি যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, যদি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ডেকে জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব উত্থাপন না করেন তাহলে ধরে নিবো তিনি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছেন। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা খুব সহজ। তিনি একটি জাতীয় সংলাপ ডাকবেন। সবার কাছ থেকে মতামত জানতে চাইবেন যে, তোমরা কী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চাও নাকি পুনর্বাসন করতে চাও। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই , এই মুহূর্তে বাংলার মাটিতে কোনো দলের সাহস নাই এই মুহূর্তে বলা যে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। কোনো দল বলতে পারবে না তারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারবে না।
রাশেদ খান বলেন, আগামীকাল আমাদেরকে ডাকুক। প্রত্যেকটা দল টা বলবে আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চাই। আপনারা অন্য জায়গায় ব্যর্থ হন মাফ করে দিব কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে যদি আপনারা ক্ষমতার চেয়ার থেকে বিদায় নেওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে কেউ মন্ত্রী পাড়ায় ঘুমাতে পারবেন না। কোনো উপদেষ্টা বাড়ি-ঘরে থাকতে পারবেন না। আমরা বিপ্লব করেছি, কথাবার্তা একটু বিপ্লবী হবেই, মাইন করবেন না। আগে আপনারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করুন পরে আমরা আপনাদের গলায় ফুলের মালা দিব। যে কথাবার্তা আমরা শুনতেছি আপনারা আওয়ামী লীগকে আপনারা নিষিদ্ধ করবেন না। কিন্তু আমরা বাধ্য করবো। প্রয়োজনে ওই যমুনা ঘেরাও করবো।
তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করে জন্ম নেওয়া দল। সুতরাং গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে যদি আমাদের এই অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় আমরা সেই লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছি।গণঅভ্যুত্থানের পরেও আমাদের এভাবে প্রতিবাদ করতে হবে এটি মাথায় ছিল না। ভেবেছিলাম ড.মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার উপদেষ্টা পরিষদ জনগণের পালস বুঝে কাজ করবেন। কিন্তু কতটুকু পালস বুঝে কাজ করতে পারছেন তা আপনারা সকলেই জানেন।
রাশেদ খান বলেন, উপদেষ্টারা যদি রাস্তায় বের হয়ে রিকশা চালক, ভ্যান চালককে জিজ্ঞাসা করতো ভাই আপনারা কি চান? তুমি কেমন আছো? তাহলে তারা উত্তর পেয়ে যেতেন। কিন্তু তারা মন্ত্রীপাড়া বাড়ি থেকে বের হয়ে সচিবালয় ঢুকে, এরপর বিকাল পাঁচটায় বাসায় গিয়ে চা-নাস্তা খেয়ে আরাম আয়েশে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের দরকার ছিল গ্রামে যাওয়া, পাড়া মহল্লায় যাওয়া। গিয়ে দেখা যে সেখানকার পরিস্থিতি কেমন। তারা যদি জনগণবান্ধব সরকার হতেন তাহলে সেটি করতে পারতেন।
খবরওয়ালা/টিএ