খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
আঙিনায় পুঁতে রাখা দুই নারী ও এক শিশুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল (১১ এপ্রিল) শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়ির আঙিনায় মরদেহগুলো পুঁতে রাখা হয়েছিল।
নিহতরা হলেন মিজমিজি এলাকার মৃত আ. ছামাদের মেয়ে লামিয়া আক্তার (২২), তাঁর বোন স্বপ্না আক্তার (৩৫) ও লামিয়ার শিশুসন্তান আব্দুল্লাহ (৪)। এ ঘটনায় লামিয়ার স্বামী মো. ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ওই রাস্তায় চলাচলকারী কয়েকজন পচা মাংসের দুর্গন্ধ পান। রাস্তার এক কোণে কয়েকটি ইট সরিয়ে বস্তা দেখতে পান তাঁরা। বস্তার ফাঁকে হাতের কনিষ্ঠ আঙুলও দেখা যায়। তারপর ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে একে একে বস্তাগুলো তল্লাশি করলে বেরিয়ে আসে খণ্ড খণ্ড দুই নারী ও এক শিশুর মরদেহ।
নিহত দুই বোনের খালা শিরিন বেগম বলেন, ‘আমার বোনের মেয়েরা মা-বাবাহারা। লামিয়া প্রেম করে বিয়ে করে। তার একটি সন্তান রয়েছে। বড় বোন স্বপ্না মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।
চার দিন ধরে তাদের খোঁজ পাচ্ছিলাম না। লামিয়ার স্বামী একজন বখাটে ছিল। তাদের সংসারের প্রায়ই সমস্যা হতো।’
নিহত লামিয়ার আরেক বোন মুনমুন আক্তার বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিক লামিয়া স্বামী, সন্তান ও বড় বোন স্বপ্নাকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। ইয়াসিন মিয়া নেশাগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। এর জেরেই তিনজনকে হত্যা করে ইয়াসিন মিয়া।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ইয়াসিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড